বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সা়ভার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন শৃংখলা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত আলোর নিচে অন্ধকার : ঝিকরগাছার টিইও’র ঘড়ির নয়টার কাটা কয়টায় যায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি ধামইরহাটে সনদ প্রাপ্ত দলিল লেখক ও নকলনবীশ গনের প্রশিক্ষণ মাসব্যাপী সাধারণ মানুষের মাঝে মাশরুর কবিরের ইফতার বিতারণ গাজীপুরের কাশিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর মুরালে ফুল দিয়া শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রশাসন সাভারে বিসিক শিল্প নগরীর পরিদর্শনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন  জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ এঁর সভাপতিত্বে গণহত্যা দিবস পালিত

এক অদ্ভুত ধরনের মায়া `ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত“

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

বিখ্যাত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়

মো. আবুজার রহমান যশোর

এখন বসন্তকাল, ঋতুতে বসন্তকাল হলেও প্রকৃতিতে বসন্তের লক্ষণ নেই।
কিন্তু অর্ণবের হৃদয়াকাশে বসন্তকাল চলছে। বসন্তে যেমন নানা ফুল ফোঁটে,অর্ণবের হৃদয়ে তেমন নানা ফুল ফুঁটছে প্রতি মুহুর্তে।

আচ্ছা জানতে কি ইচ্ছা হচ্ছে না কে এই অর্ণব!
অপেক্ষা করেন বলছি,এ গল্পটা মূলত অর্ণবের।
সবেমাত্র মেট্রিক পাশ করে কলেজে পা দিয়েছে অর্ণব।
কলেজে ভর্তি হবার ঠিক দু দিন পর ওদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান হয়!
এটা কেমন অদ্ভুত তাই না? কেন প্রথম দিন হল না!
যা হোক নবীন বরণ অনুষ্ঠান হতে অর্ণবদের কিছু উপহারের সাথে একটা ফুলের তোড়া আর একটা লাল টকটকে গোলাপ দিয়েছে।
অর্ণবের ফুল ভাল লাগে না,কিন্তু আজ গোলাপ টা নিয়ে রাস্তা ধরে আসছিলো, ফুল হাতে নিলে প্রেমহীন কর্কশ মানুষকেও রোমান্টিক মনে হয়! পথিমধ্যে এক দল কিশোরীর সাথে দেখা হয় অর্ণবের।

দুর হতেই অর্ণব লক্ষ্য করেছিলো প্রাণোচ্ছল হাসিতে টইটম্বুর এক দল কিশোরী। কিশোরী দলের ভেতর একটা পিচ্ছি মেয়ে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বলে ও ভাইয়া ফুল নিয়ে কোথায় যাবেন? এখানেই আপনার মনের মানুষ আছে কিন্তু! যদি মন চায়, ফুলের যথা ব্যবহার করতে পারেন।

আচমকা এমন কথা শুনে অর্ণব কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায়। অর্ণব লাজুক একটা ছেলে। সে এমনিতেই মেয়েদের দল দেখলে কেমন কেমন লজ্জা অনূভব করে স্বভাবসুলভাবে।
পিচ্ছি মেয়েটির কথা শুনে বালিকা দলের সবচেয়ে সুন্দরী কিশোরী মেয়েটি খিলখিল করে হেসে ওঠে।
অর্ণব এখনো দাঁড়িয়ে আছে। দেখছে ওই মিষ্টি হাসির মেয়েটিকে। মায়াবী চেহারার মেয়েটিকে হাসিতে খুব সুন্দর লাগছে।

যে এত সুন্দর করে হাসতে পারে তার একটা নাম থাকা চায়,
মনে মনে সে মেয়েটির একটা নাম দিয়েছে আর তা হলো সুহাসিনী।

ফুল টা হাতে নিয়েই বাসায় ফেরে অর্ণব।
অর্ণব নানা কাজে দিন কাটলে ও রাতে সেই সুহাসিনীর কথা মনে পড়ে। আজ রাতে তার ঘুম আসছে না, কেবল সেই সুহাসিনীর কথা মনে ভাসছে বারবার।এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে সে।

পরের দিন সকালে কলেজ যাবার সময় অর্ণবের সেই মেয়েটি মানে সুহাসিনীর সাথে দেখা হয়ে যায়।
আজ মেয়েটি একা!
তার মুখে সেই হাসি নেই,যেন অর্ণবকে দেখে ভয়ে চুপসে গেছে। দলছুট একটা হরিণীর মতন লাগছে,সুহাসিনীকে। অর্ণব আবিষ্কার করলো, না হাসলে ও মেয়েটিকে খুব সুন্দর লাগে।

মেয়েটি বিকালে তার বন্ধুদের সাথে ঘোরার সময় হঠাৎ দেখে অর্ণব কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। বান্ধবীদের সবার চোখ এড়ালেও মেয়েটির চোখ এড়ায়নি, সে গোপনে অপলকে দেখছিলো অর্ণবকে।

আসলে অর্ণব ততটা সুদর্শন না, তবে একটা মায়া আছে তারা চোখে-মুখে।

এভাবে পথ চলার সময় অর্ণবের সাথে সুহাসিনী প্রায় দেখা হয়। অর্ণব অনমনে সুহাসিনীর মায়ায় পড়ে যায়, কেন জানি! সুহাসিনীকে না দেখলে অর্ণবের ভাল লাগে না। সে জানে না কেন এমন হয়!
”হয়নি জানা তারে একটু ও
তবু খুব চেনা লাগে যে তারে”’

সেই সুহাসিনী মেয়েটির নাম কিন্তু এখনো অর্ণবের অজানা।
হ্যা সত্যি, অর্ণব আজও তার নাম জানে না, তবে সে চেষ্টা করছে সুহাসিনীর নাম কি তা জানতে।

হঠাৎ একদিন সবান্ধবে সুহাসিনীর সাথে দেখা হয়। আকস্মিক সেই লাবণ্যময়ী সুহাসিনী, অর্ণবকে অচিন মানুষ বলে সম্বোধন করে বসে।
এতটুকুই,আর কোন কথা হয়নি।
অবশ্য মেয়েটির বান্ধবীরা এসব নিয়ে মাঝেমাঝে ই ক্ষ্যাপাতে থাকে ওরে।

প্রায়ই দেখা হয়, টুকটাক ইশারায় কথা হয়।
দিনে দিনে অর্ণব সেই মেয়েটিকে খুব অনুভব করে।

হ্যাঁ এসব ঘটনাই অর্ণবের মনের বসন্তকালের মূল কারণ।

কিন্তু আজ খুব মন খারাপ হয়েছে অর্ণবের! মেয়েটির কাছে নাম জানতে চেয়েছিলো সে! কিন্তু মেয়েটি একটা রহস্য ভরা হাসি দিয়ে তার সামনে হতে চলে গেল।
অর্ণব বুঝতে পারছে না মেয়েটিকে! কীভাবে জানবে সুহাসিনীর নাম! নামহীন কাউকে কিভাবে সে আপন মানুষ মনে করবে?

আজ বৃষ্টির কারণে তাড়িতাড়ি কলেজ ছুটি হয়েছে।
মেয়েটি উদাসমনে জানালার পাশে বসে আছে। দেখে মনে হচ্ছে সে হয়ত কারো অপেক্ষায় বসে আছে!
যখন অর্ণব মেয়েটির বাসার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো,
সুহাসিনী মেয়েটি দৌড়ায়ে আসে তাঁর কাছে এবং আচমকা বলে ওঠে, বৃষ্টিতে ত ভিজে যাচ্ছেন, ছাতা লাগবে নাকি? হঠাৎ বৃষ্টিতে নামছিলো সেদিন…

তাহলে কি মেয়েটিও অর্ণবের ভাবনায় আটকে যাচ্ছে?

অর্ণব কিছুটা অবাক হল ! সে কোন হ্যাঁ বা না কিছু বলল না।কারণ এ কথা মানবিক হলে ও অপ্রতাশিত।
আজ সরাসরি নাম জানার একটা সুযোগ ছিল।
তবু আজ ও তার নাম জানা হলো না! সে চেয়েছিল কিছু বলতে কিন্তু পারল না! যখন মেয়েটি কথা বলছিলো,অর্ণবের মনে হচ্ছিলো সে হাওয়ায় ভাসছে, পায়ের নিচে কোন মাটি নেই।

সুহাসিনীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অর্ণব চলে গেল।

“`কেবল চেয়ে ছিলাম,বলার অনেক কিছু ছিল তবু বলা হল না গো“`

অর্ণবের উচিত ছিল কিছু বলা, কিন্তু বলতে পারিনি।
কেন বলতে পারিনি? সে জানে না। এমন উত্তরহীন প্রশ্নের পর মেয়েটির মনের কি অবস্থা অর্ণব জানে না। তবে অর্ণবের মনের অবস্থা দোদুল্যমাণ। এক অদ্ভুত খারাপ লাগছে অর্ণবের। কেন সে কোন কথা বলতে পারল না?
কেন আজও মেয়েটির নাম জানা হল না?

এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেল, মেয়েটির সাথে তার বেশকিছু দিন আর দেখা হয় নি।
কলেজে পরীক্ষার ডেট পড়েছে,পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অর্ণব খুব ব্যস্ত। ২০ দিন পর পরীক্ষা শেষ হয় তার। পরীক্ষার চাপে হৃদয় হরনকারী বালিকাকে সরাসরি দেখার সময় পায়নি অর্ণব,তবে মনের ভেতর বালিকার আনাগোনা সব সময় ছিল ।

খুব সকালে প্রস্তত হয়ে কলেজের দিকে ছুটল অর্ণব,আসলে আজ মেয়েটির নাম জানতেই হবে তাকে। সুনয়নার বাসার পাশেই এক পরিচিত দূর সম্পর্কের বন্ধুর মারফাতে সেই কন্যার নাম জানতে পারল অর্ণব।

হ্যাঁ,সেই মায়াবিনী রহস্যময়ী ললনার নাম চাঁদনী! যার জন্য অর্ণবের এত ব্যাকুলতা।

“ যা জানলো তা কোন প্রাচীন গ্ররুত্বপূর্ণ নিদর্শনের সন্ধান না হলে ও অর্ণবের অশান্ত মনের প্রশান্তির বাতাস “
আচ্ছা! অর্ণব ত চাঁদনীর নাম টা জানতে পারল,তবে চাঁদনী কি অর্ণবের নাম জানে?
না চাঁদনী ও অর্ণবকে জানে না!
চাঁদনীর চোখে অর্ণব হল অচিন মানুষ।
চাঁদনী এই অচিন মানুষকে প্রায় অনমনে ভাবতে থাকে। তবে সামনে যখন দেখা হয় তখন তাঁর খুব ভয় হয়। কি জানি অর্ণব কে খুব ভয় পায় চাঁদনী।সে খুব অবাক হয় সেই দিন বৃষ্টির সময় কিভাবে ছাতার কথা বলেছিল অর্ণবকে? একদিন। অর্ণবকে না দেখতে পেলে তার মন ভাল থাকে না

কী এক অজানা যন্ত্রণায় পড়েছে চাঁদনী!

আজ আবহাওয়া খুব মিষ্টি ,সূর্য কিরণ দিচ্ছে ঝিরঝির বাতাস বয়ছে…..এমন আবহাওয়াতে
অর্ণব আজ চাঁদনীর মুখোমুখী, চাঁদনীর দিকে তাকিয়ে বলল, আমি অচিন মানব না! আমি অর্ণব।

চারদিকে এত কোলাহল, তবু তারা দুজন যেন দাড়িয়ে আছে কোন এক নিশ্চল শহরে!সময় থমকে গেছে।

এত টুকু কথা বলে ই দুজন দুই দিকে চলে গেল……

তাদের হৃদয়ে হৃদয়ে আর চোখে-চেখে ভাবের আদান-প্রদান হয়,মুখে তেমন কথা হয় না। এখন তারা পরস্পরের পরিচিত মুখ।

মনে মনে হাঁজার কথা বললেও সামনাসামনি আসলে মহাকাল যেন থমকে যায়,যখন তাঁরা মুখোমুখি হয় ।

চাঁদনী এখন অর্ণবকে কিছুটা বুঝতে শুরু করেছে..
তার হৃদয়ে নানা কল্পনা -জল্পনা উকি দিচ্ছে হররোজ।

চাঁদনীদের স্কুল আজ বর্ণীল রঙে সেঁজেছে। একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। চাঁদনী খুব সাধারণ একটা মেয়ে, ও তেমন সাঁজে না,তবু ওকে মোহনীয় লাগছে,যেন কোন পরী আকাশ হতে নেমে এসেছে।
আজ অর্ণবের কলেজ বন্ধ। সে চাঁদনীদের স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্টান দেখতে যাবে। সে একটা লাল খয়েরি পান্জাবী পরেছে, চোখে একটা চশমা লাগিয়েছে। অর্ণবকে কোন নাটকের নায়কের মতন লাগছে।
বিকাল হতে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে অর্ণব, চাঁদনীকে দেখে অবাক হয়ে যায়।সে যেন কোন পরীকে দেখছে।
হঠাৎ চাঁদনী কাছে এসে বলে আপনাকে নায়ক লাগছে কিন্তু আজ!
অর্ণব মুচকি হাসি দিল একটা…
বলল তোমাকেও দারুণ লাগছে!
অনুষ্ঠান টা অনেক মজার হয়ছে, তবে অর্ণবের দৃষ্টি ছিল কেবল চাঁদনীর দিকে!
চাঁদনী অর্ণব কে মাঝে মাঝে দেখছিলো। কত কথা বলার ছিল কোন কথাই বলা হল না।

এর পর অনেক দিন কেটে গেল!

চাঁদনী কোন একটা সাধারণ নাম নই! এই নাম অর্ণবের হৃদয়ের স্পন্দন। প্রতিটা মুহূর্ত চাঁদনীকে ভাবে।
কিন্তু বিষ্ময়কর কথা হলো চাঁনীর সামনে গেলে অর্ণবের কোন কথা থাকে না।

ও দিকে চাঁদনীর নিজের পড়াশুনায় ব্যস্ততা বেড়েছে। আগের মতন আর দেখা হয় না তাঁদের। অর্ণব কলেজ শেষ করে এখন এক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে হয়েছে।

সময়ের পরিক্রমায় তাদের আর দেখা বা কথা কোন টাই তেমন হয়না।ব্যস্ত শহরে হাজারো মানুষের ভিড়ে আজও চাঁদনীর কাছে অর্ণবের মন পড়ে থাকে ।

অর্ণব জানে না তার এ ভাবনার মানে কি! কারণ চাঁদনীর সাথে এমন কোন আলাপ হয়নি, যে তাঁরা কোন প্রতিশ্রুতিতে আছে। তবু হৃদয়ের শূন্যতা থাকে অর্ণবের। সে জানে না এমন কোন উপায়, যা দ্বারা এ হৃদয় ঘঠিত সমস্যার সমাধান আসতে পারে।

বেশ কিছুদিন পর অর্ণবের বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে বাসায় এসে জানতে পারে চাঁদনীর বিয়ে হয়ে গেছে।

খবর টা অর্ণবের জন্য কষ্টের হলে ও কষ্ট পাওয়া তার অনুচিৎ। চাঁদনী ত কোন দিন অর্ণবের সাথে কোন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল না। তবু অর্ণবের মন খারাপ হয় ।
এক সাগর শূন্যতা ভর করে তার হৃদয়ে।

সব চেয়ে বড় কথা চাঁদনীকে অর্ণব কোনদিন মনের কথা বলতে পারিনি। হাজারো কল্পনায় একেছে চাঁদনীকে।

চাঁদনীকে হয়ত তাঁর ভাবনা হতে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না তবে এক সাগর হাহাকার থাকবে অর্ণবের।

“সে বসন্ত বাতাস হয়ে এসে ছিল
শীতের রুক্ষতা হয়ে চলে গেল“

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০০ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৩১ অপরাহ্ণ
  • ১৮:২৮ অপরাহ্ণ
  • ১৯:৪৭ অপরাহ্ণ
  • ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102